মাসুদা সুলতানা: ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল নাজিয়ার। পুরো নাম “নাজিয়া তুল ফাতাহ”। হ্যা, বন্ধুরা আজ গল্প করব বিষ্ময়কর প্রতিভার অধিকারীনি নাজিয়ার কথা। ছোটবেলা থেকেই গল্প, কবিতা লেখার অভ্যাস ছিলো নাজিয়ার৷ বড় হতে হতে সে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে। স্কুল লাইফ থেকেই লেখা-লেখিতে পারদর্শী হতে শুরু করে সে। কলেজ লাইফে তার প্রথম কবিতা ” ফোকলা দাতের বু্ঁড়ি ” প্রকাশিত হয় “আড়ম্বর ” নামক পত্রিকায়। এরপর সে আর বসে থাকেনি। চালিয়ে যেতে থাকে লেখা। “সোনার বাংলা” পাতাবাহারেউ বেশ কয়েকবার গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। মুক্তবুলি, চিরকুট সাহিত্যেউ তার লেখা প্রকাশিত হয়। এর পরেই সে সুযোগ পেলো ইন্ডিয়ান বইয়ে কো-অথর হিসেবে লেখা দিয়ে অংশ নেয়ার। প্রথম ইংরজী প্রবন্ধ “Believer never is in loss” প্রকাশিত হয় “Blooming Skies” হার্ডকপি বইয়ে, সেই সাথে পেলো ISBN অনুমোদিত সার্টিফিকেট। এর পরে তার লেখা চলতেই থাকে। এভাবে সে ইংরেজি এন্থোলজি নিয়ে কাজ করতে করতে ইংরেজী ২০০ (দুইশত) বেশি ইংরেজি বইয়ে কো-অথর হিসেবে লেখা দিয়ে অংশ নিয়েছে। Motivational Warriors, Dad my inspiration, Women empowerment, Self- satisfied life, Bucket of dreams, All is not lost সহ প্রায় দুইশত ইংরেজি বইয়ে লেখা দয়ে অংশ নিয়েছে, নাজিয়া পেরেছে অর্জন করতে ১০০ (একশত) এরও অধিক সার্টিফিকেটসহ বেশ কয়েকটি মেডেল, ট্রফি, লেটার। আশ্চর্যজনক বিষয় এটাই যে, নাজিয়া একশত এরও অধিক সার্টিফিকেট পেয়েছে তার নিজের আগ্রহ, জেদ ও মেধার দ্বারা। ইন্ডিয়ার এতোগুলো পাব্লিকেশনে লেখা দেয়ার ফলে ইন্ডিয়ান কম্পাইলারগন খুবই খুশি বাংলাদেশী মেয়ে নাজিয়াকে নিয়ে, তারা বলে, “India gets love from Bangladesh “। বেশিরভাগ ইংরেজী লেখা হলেও বাংলাদেশকেউ সে উপহার দিয়েছে অসাধারণ, মনোমুগ্ধকর, বাংলা লেখনী। যার মাধ্যমে সে বেশ কয়েকটি সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট, মেডেল পেয়েছে। নাজিয়া সবার কাছে দোয়া প্রার্থী। সে সপ্ন দেখে বড় একজন লেখিকা হওয়ার। সে বলে, ” আমার চাচ্চু ‘ মরহুম নূর মোহাম্মদ শেখ’ খুব ভালো লিখতো, কিন্তু আজ সে বেচে নেই, সে আজ বেচে থাকলে আমার অর্জনে অনেক খুশি হতো। আমাকে লেখিকা হিসেবে গড়ে উঠতে দেখে গর্ব করতো। আর আনন্দের বিষয় এটাই যে, আমার নানাভাই, “অধ্যাপক মওলানা মনিরুজ্জামান ফরীদি” একজন বড় জ্ঞ্যানী, সম্মানিত এবং সুবিবেচক শ্রদ্ধ্যেয় মানুষ। তার থেকেউ আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি লেখার। আমার অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলেই আজ আমি এতোদূর আসতে পেরেছি।
আমাকে তারা মোটিভ করেছে লিখতে। আমি চাই সত্যকে তুলে ধরতে কলম দ্বারা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন”। নাজিয়া বর্তমানে “রাজবাড়ী সরকারি কলেজ” এর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ” বোটানি ডিপার্টমেন্ট ” এর নিয়মিত ছাত্রী। ইন্ডিয়ান পাব্লিকেশনস কর্তৃক “Open mic event” এ টপ হয়েউ সারটিফিকেটস পেয়েছে ও স্পেশাল ম্যানশন্ড হয়েছে। এছাড়া সে “English for media literacy course ” আন্ডার USA embassy, কম্পলিট করে ব্যাজ পেয়েছে। এবং সে আইএল্টেস কোরস কম্পলিট করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।