শফিকুল ইসলাম সোহাগ: ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি।পূবালী ব্যাংকের একটি দুর্দান্ত স্লোগান এবং আকর্ষণীয়। স্লোগানটির ভুমিকা অপরিসীম। অত্যন্ত গুরুত্ববহন করে। ব্যাপকভাবে জনমানুষকে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করতে সক্ষম। যা স্বপ্ন-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বলতে বোঝায় দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি, রীতিনীতি, এবং বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। বাংলাদেশ ও পূবালী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের উদাহরণে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সততা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তারা অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে এবং গ্রাহকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
ঐতিহ্যবাহী পেশা ও শিল্পের উন্নয়ন: কৃষি, হস্তশিল্প, এবং তাঁত শিল্পের মতো দীর্ঘদিনের পেশাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রযুক্তি: পুরনো কাজের ধারাকে বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে নতুন প্রজন্মের কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো। পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
সাফল্য ও গৌরবের ঐতিহ্য: প্রায় ৬৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সাথে কাজ করে একটি প্রতিষ্ঠান তার ঐতিহ্যের সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখছে । ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি দেশ তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রেখে একটি টেকসই এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে অগ্রসর।
ব্যাংক মুলত আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে । ব্যাংক ব্যক্তি ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
ব্যাংক আধুনিক অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের মূল চালিকাশক্তি, যা অর্থ আমানত গ্রহণ, ঋণের সুবিধা, এবং নিরাপদে লেনদেন পরিচালনার মাধ্যমে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এটি সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করে, ব্যবসায়িক মূলধন জোগায়, এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। জনগণের উদ্বৃত্ত অর্থ বা সঞ্চয় নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং এর ওপর সুদ প্রদান করে। আমানতকারীদের টাকা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ঋণ হিসেবে দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে প্রতিটি ব্যাংক।
চেক, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও ব্যবসায়িক দেনা-পাওনা দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তি করে। দেশের সামগ্রিক মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প ও কৃষিখাতে অর্থায়নের মাধ্যমে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক যেকোনো জরুরি প্রয়োজনের জন্য ব্যাংক থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
বর্তমান যুগের সুসভ্য মানব সমাজের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা যে একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়, তা অনস্বীকার্য। বড় বড় ব্যবসা সহজকরণ, সঞ্চিত ধন-সম্পদ হিফাযত করা এবং এসব থেকে আরো অর্থ উপার্জন করার জন্য বর্তমান যুগে ব্যাংকের অস্তিত্ব বা প্রিতিষ্ঠা আবশ্যক। কাজেই নিশ্চিতরূপে এ কথা বলা যায় যে, ব্যাংক একটি কল্যাণকর প্রতিষ্ঠান। অনেক বড় বড় অর্থনৈতিক এমন কাজও রয়েছে যা ব্যাংকের সাহায্যেই সুসম্পন্ন করা সম্ভব। ব্যাংকের সাহায্যে অনেক এজেন্সি সার্ভিসও সুসম্পন্ন হয়ে থাকে। সমাজের অসংখ্য লোকের হাতে কম-বেশি পরিমাণের যে পুঁজি বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে এই ব্যাংকের মারফতেই একটি স্থানে কেন্দ্রীভূত হয়ে সামষ্টিক কল্যাণমূলক কাজে বিনিয়োগ হতে পারে। কিন্তু এসব অসংখ্য কল্যাণজনক কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থার কিছু সমস্যা দূরীভূত করতে পারলে । ব্যাংকের প্রতি মানুষের বিশ্বাস অপরিহার্য হয়ে উঠবে। সুপ্রসারিত সামাজিক কার্যক্রম আরো প্রস্ফুটিত আলোর পথ দেখবে।
শুরুতে বেসরকারি খাত থেকে জাতীয়করণ। এরপর আবার বেসরকারি খাতের মালিকানায় যাত্রা শুরু করে পূবালী ব্যাংক। সমস্যায় পড়া ব্যাংক থেকে এখন এটি আধুনিক ও শক্তিশালী একটি ব্যাংক। মুনাফা ও কর্মী–সুবিধায় এখন দেশের শীর্ষ দুই ব্যাংকের একটি। দেশের পুরোনো ব্যাংকগুলোর একটি পূবালী ব্যাংক। নানা সমস্যা মোকাবিলা করে এখন এটি আধুনিক ও স্মার্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১৯৫৯ সালে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাত ধরে এই ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এটি জাতীয়করণ করা হয়।
জাতীয়করণের আগে এটির নাম ছিল ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক। পরে নাম বদলে পূবালী ব্যাংক রাখা হয়। ঋণের মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় ১৯৮৪ সালে ব্যাংকটিকে আবার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংক সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া হয়। সংস্কারের অংশ হিসেবে শুরুতে মানবসম্পদ ও কর্মকর্তাদের সেবা দেওয়ার মানসিকতার উন্নয়ন ঘটানো হয়। পাশাপাশি শাখার অবকাঠামোর পরিবর্তন শুরু হয় এরপর নজর দেওয়া হয় সুশাসনে। ২০০৫ সালে পূবালী ব্যাংক সমস্যাযুক্ত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসে। ফলে ২০০৭ সালে পর্যবেক্ষক তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর ২০০৮ সালে ব্যাংকিং থেকে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের (সিবিএস) মাধ্যমে ব্যাংকের নতুন রূপান্তর ঘটে। এরপর থেকে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করে পূবালী ব্যাংক। একই সময়ে ভিসা, মাস্টারকার্ড, কিউ ক্যাশের মাধ্যমে কার্ড সেবাও শুরু হয়, নিজস্ব এটিএম, সিআরএম বসানো হয়। গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করে নতুন নতুন সেবা চালু করা হয়েছে। আমাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা পাইয়ের pI মাধ্যমে খুচরা ও করপোরেট গ্রাহকেরা ঋণ আবেদন, ঋণ পরিশোধ, ঋণপত্র খোলাসহ সব ধরনের সুবিধা পান। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ডিজিটাল লেনদেনের যত উদ্যোগ নিয়েছে, তার সবগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছে পূবালী ব্যাংক। আমাদের সব ডিজিটাল সেবা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। ফলে প্রচুর গ্রাহকও পেয়েছে পূবালী বাংক ।
ভবিষ্যতে পূবালী ব্যাংককে বহুজাতিক ব্যাংকে রূপ দিতে সে চেষ্টা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল ব্যাংকের যেসব সেবা চালু হচ্ছে, সকল কিছুতে ভারসাম্য আনায়ন করতে সেই প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে। শাখা, উপশাখা ও বুথের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বেশি স্থানে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে । বর্তমানে পূবালী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি নেটওয়ার্ক–সমৃদ্ধ বেসরকারি ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আস্থা রয়েছে এই ব্যাংকের ওপর। এ কারণে খুচরা আমানত অনেক বেশি। পূবালী ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ আমানত সাধারণ গ্রাহকের। এসব আমানতের সবই কম সুদে পাওয়া । এখন ডিজিটাল সেবার জোয়ার চলছে। সামনে ঋণ ও ডিজিটাল মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। আমরা দ্রুত সেই পথে যাচ্ছি। শুরুতে সাশ্রয়ী গৃহঋণ ও ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যাবে ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করে। চলতি বছরই এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ।
পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম। খেলাপি ঋণ যথেষ্ট কম, যত দূর জানি, খেলাপি ঋণের এই হার দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ব্যাংকে কোনো বেনামি প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই। কোনো ঋণ দেওয়ার আগে প্রথমে শাখা পর্যায় থেকে পরিদর্শন করা হয়, এরপর প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রাহকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর পরও যদি সন্তোষজনক না মনে হয়, তখন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার মান, শিল্পের যন্ত্রপাতি ও আর্থিক বিবরণী যাচাই করা হয়। পাশাপাশি আইনজীবীর মতামত নেওয়া হয়। এত সব প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের খেলাপি ঋণ কম। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণে খেলাপির হার ১ শতাংশের কম। আর করপোরেট ঋণে খেলাপি ৩ শতাংশের কিছুটা বেশি।
মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে, এমন খাতের বাইরে অন্যত্র ঋণ দেয় না পূবালী ব্যাংক। ব্যবসায় আমাদের যত ঋণ আছে, তার সবই খাদ্য ও খাদ্যসামগ্রী খাতে। এ ছাড়া বস্ত্র ও বস্ত্রসংশ্লিষ্ট খাতে বড় বিনিয়োগ আছে। বাসস্থানের মধ্যে যারা সাশ্রয়ী আবাসন করে, তাদের অর্থায়ন করেছে ব্যাংটি। হাসপাতাল খাতেও বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেককে অর্থায়ন করেছে। এর ফলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে রাখতে সক্ষম । যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহকসেবার মূলে থাকেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। পূবালী ব্যাংকে কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তেমন কোনো অসন্তোষ নেই।
এথন ব্যাংকের কর্মীরা হঠাৎ ব্যাংক ছাড়েন না। পরিচালক ও শেয়ারধারীরাও এই ব্যাংক ছেড়ে যান না। যাঁরা এই ব্যাংকের সরবরাহকারী, তাঁরাও অনেক পুরোনো। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোও দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গে রয়েছে। কর্মীদের উন্নয়নে দেশে ও বিদেশে যত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে , অন্য কোনো ব্যাংক তা দেয়নি। ব্যাংটির কৌশল হলো, সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে যদি কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে সেবার মান বাড়ে। একজন গ্রাহককে যেমন আমরা সারা জীবন ধরে রাখতে চেয়েছি, একইভাবে কর্মীকেও ধরে রাখতে চেয়েছি। এ জন্য দেড় দশক ধরে দুই-তিন বছর পরপর বেতনকাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে। এবার অন্য কোনো ব্যাংক যখন বেতন বাড়াচ্ছে না, তখন ১৮ শতাংশ বেতন বাড়িয়েছে। এখন দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে পূবালী ব্যাংক। ব্র্যাক ব্যাংকের পরে পুবালির মুনাফা সবচেয়ে বেশি। মুনাফার একটি অংশ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছি। এবারও ছয়টি মূল বেতনের সমান মুনাফার ভাগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারধারীদেরও ২৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়েছে।
কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার আগে ঋণের গ্রাহক কারা, তাদের ভাবমূর্তি কেমন এসবও দেখা উচিত। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মালিক যদি রাজনীতির সঙ্গে খুব বেশি যুক্ত থাকে, অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়, তাহলে সেই ঋণে ঝুঁকিও বেশি থাকে। আমাদের ব্যাংকের খারাপ অবস্থা ঠিক করতে ২১ বছর সময় লেগেছে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সেসব ব্যাংকের ১৫-২০ বছর সময় লাগবে। এখন অনেকের সম্পদ বিক্রি করে টাকা আদায় করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাবে না। পুরো আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে একেক খেলাপি ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় লাগবে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি (Pubali Bank PLC) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পুরনো বাণিজ্যিক ব্যাংক, যা বিস্তৃত অনলাইন ব্যাংকিং, উন্নত ডিজিটাল অ্যাপ (PI), এবং বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিধা প্রদান করে । এর প্রধান সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে- ৫২টি শাখায় লকার সুবিধা, দ্রুত রেমিটেন্স, ‘স্বাধিন সঞ্চয়’ স্কিম (এফডিআর ও ডিপিএস এর সুবিধা), এবং ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কন্টাক্টলেস কার্ড লেনদেন। ‘PI’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৪/৭ ব্যাংকিং, ইনস্ট্যান্ট একাউন্ট খোলা, ফান্ড ট্রান্সফার এবং SMS এলার্ট সুবিধা
একটি বিশেষ সঞ্চয়ী হিসাব, যেখানে গ্রাহক একই একাউন্টে এফডিআর এবং ডিপিএস এর মত সুবিধা পান
২য়৫০টির বেশি পার্টনার আউটলেটে ০% ইন্টারেস্টে কিস্তি (EMI) সুবিধা এবং ‘বাই নাও পে লেটার’ (BNPL) সুবিধা
ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে মুদারাবা ক্যাশ ওয়াকফ, আল-ওয়াদিয়াহ কারেন্ট একাউন্ট সুবিধা শিক্ষাসঞ্চয় প্রকল্প’ (SSP) – এর মাধ্যমে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় এবং লোন সুবিধা।
ISO ও PCIDSS সার্টিফায়েড কার্ড, এনএফসি প্রযুক্তি, এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী দ্রুত লেনদেনের সুবিধা।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি (Pubali Bank PLC) বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে নানা ধরনের ব্যাংকিং প্রোডাক্ট ও সেবা প্রদান করে থাকে। ডিপোজিট বা আমানত প্রোডাক্ট (Deposit Products)
সাধারণ হিসাব: কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট, এবং স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট (SND)।
ডিপোজিট স্কিম:
• মুদারাবাহ স্বপ্ন পূরণ ডিপোজিট স্কিম (MSPD)।
• মুদারাবাহ স্বাধীন সঞ্চয় ডিপোজিট স্কিম (MSSD)।
• মুদারাবাহ শিক্ষা সঞ্চয় স্কিম (MSSS)।
• মুদারাবাহ হজ্জ সঞ্চয় হিসাব।
• ডিপোজিট পেনশন স্কিম (MDPA)।
• পিপলস পূবালী পেনশন স্কিম।
• সিনিয়র সিটিজেন পূবালী ডিপোজিট স্কিম।
• মেয়াদী আমানত: ফিক্সড ডিপোজিট (MTDR) এবং মাসিক মুনাফা ভিত্তিক ডিপোজিট (MMPD)।
লোন বা ঋণ সুবিধা (Loan Products)
• ব্যক্তিগত ঋণ: পার্সোনাল লোন, গৃহ নির্মাণ লোন, ফ্ল্যাট কেনা লোন, এবং ডিপিএল-পূবালী স্টার লোন।
• যানবাহন ঋণ: কার লোন বা ভেহিকল লোন।
• ব্যবসায়িক ঋণ: ওয়ার্ক অর্ডার/কনস্ট্রাকশন বিজনেস ফিনান্সিং, ওভারড্রাফ্ট (OD), এবং ব্যাংক গ্যারান্টি।
• বিশেষ লোন: প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসীবাস’ লোন, শিক্ষকদের লোন, এবং গ্রিন লোন।
• কৃষি ঋণ: কৃষি খাতের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা।
৩. ইসলামিক ব্যাংকিং (Islamic Banking)
পূবালী ব্যাংক ইসলামিক উইন্ডো বা শাখার মাধ্যমে শরীয়াহ ভিত্তিক ডিপোজিট ও ইনভেস্টমেন্ট প্রোডাক্ট প্রদান করে, যেমন:
• আল-ওয়াদিয়াহ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট।
• মুদারাবাহ সেভিংস/ফিক্সড ডিপোজিট।
• বাই-মুয়াজ্জাল ও বাই-মুরাবাহা (ফাইনান্সিং)।
কার্ড এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং
• কার্ড: ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড (ভিসা/মাস্টারকার্ড)।
• ডিজিটাল ব্যাংকিং: পিআই (PI) ব্যাংকিং অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম (ATM), সিআরএম (CRM) এবং সিডিএম (CDM) সেবা।
অন্যান্য সেবা
• রেমিটেন্স: দ্রুত রেমিটেন্স সংগ্রহের বিশেষ সুবিধা।
• অফশোর ব্যাংকিং: বিদেশী মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও পুরনো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটির বিশাল নেটওয়ার্ক (৫১৮টি শাখা, ২৮০টি উপ-শাখা) এবং শক্তিশালী মূলধন (AAA রেটেড) গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
পূবালী ব্যাংকের গুরুত্বের প্রধান দিকগুলো হলো:
• বিশাল শাখা ও অনলাইন নেটওয়ার্ক: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫১৮টি শাখা ও ২৮০টির বেশি উপ-শাখার মাধ্যমে এটি বিস্তৃত ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম রিয়েল-টাইম সেন্ট্রালাইজড অনলাইন ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক।
• রেমিট্যান্স আহরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য: প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত আত্মীয়দের কাছে পৌঁছে দিতে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। Western Union ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের উপর ভিত্তি করে এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখছে।
• অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়ন: ১৯৬০-এর দশক থেকে বাঙ্গালী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে এটি দেশের শিল্প ও কৃষি উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
• আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং: গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ‘পূবালী ডিজিটাল ব্যাংকিং’ অ্যাপ, eKYC-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা, এবং অনলাইন লেনদেনের সুবিধা চালু করেছে।
• স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা: এটি একটি ‘AAA’ রেটেড ব্যাংক, যা এর আর্থিক দৃঢ়তা এবং দায় পরিশোধের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রমাণ করে।
• কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR): দুর্যোগ মোকাবিলা (যেমন- বন্যা) ও সামাজিক কল্যাণে এটি কোটি টাকার অনুদান ও সাহায্য প্রদান করে থাকে।
পূবালী ব্যাংক তার দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং আধুনিক সেবার সমন্বয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।









