গোলাম নবী পান্না-র গুচ্ছছড়া

ছবি: সংগৃহীত

বিজয়ের পতাকাটা

বিজয়ের মালা গাঁথা
স্বপ্নের ছিলো
স্বপ্নটা বাস্তবে
যেই ধরা দিলো।

লাল আর সবুজের
পতাকায় দেখি
মিলে মিশে একাকার
আনন্দ সেকি!

পত্ পত্ ঢেউ তুলে
দুলে দুলে উড়ে
বিজয়ের পতাকাটা
এই দেশজুড়ে।

বিজ্ঞাপনে ক্লিক করুন 🌟

লাল-সবুজের জয় পতাকা

আঁধার ঠেলে সূর্য যখন আলোর ডানা মেলে
পাতায় পাতায় রোদের কুঁচি ঝলমলিয়ে খেলে।

দেয় মুছে দেয় বনের আঁধার মনের যতো কালো
নিসর্গকে লাগে তখন অন্যরকম ভালো।

আবছা ধূসর দূরের পাহাড় সবুজ আভায় হাসে
আঁকাবাঁকা ছোট্ট নদী যায় বয়ে তার পাশে।

নদীর জলে দুলতে থাকে নীলচে মেঘের ছায়া
হাওয়ায় দোলায় মাঠের ফসল দেয় ছড়িয়ে মায়া।

আমার দেশের রূপটি এমন নিত্য টেনে রাখে
বুকের মাঝে ভালোবাসার সবুজ ছবি আঁকে।

লাল-সবুজের জয়পতাকা হাওয়ায় যখন দোলে
স্বপ্নে দেখা সুখের আবেশ উদাস করে তোলে।

 

বিজয়ের আনন্দ

বিজয়ের আনন্দ
ছন্দটা পেলে
গর্বের হাসিমুখ
সহজেই মেলে।

তার আগে যুদ্ধের
লড়াইটা খেলে
আলো খুঁজে নিতে হয়
আঁধারটা ঠেলে।

তারপর বিজয়ের
আলোটাকে জ্বেলে
সাজাতেই পারি দেশ
সযতনে ঢেলে।

বিজয়টা মাখা
গোলাম নবী পান্না

রাতের আঁধার শেষে
আলোকিত ভোর
রোদের ছোঁয়ায় যেনো
মুক্ত সে দোর।

রক্ত নদীর কূলে
মরণকে জানি
এ দেশের বুকে লেখা
শহীদের বাণী।

সবুজ ও লাল রং
পতাকায় আঁকা
আকাশ-বাতাস জুড়ে
বিজয়টা মাখা।

ছড়াকার পরিচিতি: গোলাম নবী পান্না একজন ছড়াকার ও শিল্পী। বাবা: এ.কে. মোস্তাক আহমদ। মা: দুলারী বেগম। পান্নার জন্ম ৮ আগস্ট ১৯৬৬ চাঁদপুর জেলার গন্ডামারা গ্রামে। তিনি একাধারে লেখক, চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা। ছড়া দিয়ে লেখালেখির যাত্রা শুরু করলেও গোলাম নবী পান্না সাহিত্যের সব ক’টি শাখায় করছেন অবাধ বিচরণ। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পান্নার আঁকা পোট্রেট ছাপা হয়েছে এ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকাসমূহে। শুধু তাই নয় দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার আঁকা ছবি ছাপা হয়েছে ভারত, যুক্তরাজ্য ও জাপানের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে। পান্না বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর তালিকাভূক্ত গীতিকার। বাংলাদেশ বেতার-এর কলকাকলী অনুষ্ঠানের ‘রানারের ঝুলি’র গ্রন্থনার দায়িত্বে রয়েছেন। পান্না অর্জন করেন নজরুল সম্মাননা, ফররুখ আহমদ সম্মাননা, নলতা মিতালী কচি-কাঁচার মেলা সম্মাননা, আবাবীল সম্মাননা, টুপটাপ সম্মাননা, স্বপ্নালোক স্বর্ণকলম সম্মাননা, স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার, কবি জসীম উদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, অনামিকা প্রকাশনী পুরস্কার, কুসুম কলির আসর পুরস্কার, লাল-সবুজের মেলা পুরস্কার, কথন শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ছড়ার ডাক পদক, মৃত্তিকা পদক, চত্বর সাহিত্য পদক, সাউন্ড বাংলা স্বর্ণপদক । পান্নার নিজের আঁকা ও লেখায় সমৃদ্ধ ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়ায় নজরুল পড়া’ ও ছড়াগ্রন্থ ‘ঘাড়তেড়া’ প্রকাশিত হয়েছে অনামিকা প্রকাশনী থেকে। পঙ্খিরাজ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ছড়াগল্পগ্রন্থ ‘মাছরাঙা ও মিনি’। প্রতিবিম্ব প্রকাশ থেকে ‘ছোটদের মিনি ছড়া’। পান্না বাংলা একাডেমীর সদস্য, কবি সংসদ বাংলাদেশ-এর জীবনসদস্য। দৈনিক জনতার সংবাদ-এর বিভাগীয় সম্পাদক। শিশু সংগঠন ‘আনন ফাউন্ডেশন’-এর প্রচার সম্পাদক।‘চিরকালের শিশু’ সংগঠনের পরিচালক পান্না ‘লেখারেখা’ নামে একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। পান্নার শ্বশুর কবি জাহাঙ্গীর হাফিজ। পান্নার স্ত্রী কবি নার্গিস চমন ও একমাত্র কন্যা ওয়ালিদা মোনালিসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *