বাংলা সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মাহমুদুল হাসান নিজামী আর নেই। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাহমুদুল হাসান নিজামী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি কবি, গীতিকার, সুরকার এবং দৈনিক দেশজগত পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি পাঁচ হাজারেরও বেশি কবিতা ও গান রচনা করেন। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য এবং ভাষার অভিনব ব্যবহারের কারণে তাঁর রচনাগুলো পাঠকদের কাছে আলাদা স্বীকৃতি পেয়েছে।

এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১৪০টি। কবিতা, ছড়া, ইতিহাস ও গবেষণাধর্মী রচনার পাশাপাশি তিনি বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের রচনাও বাংলায় কাব্যানুবাদ করেছেন। শেখ সাদী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার এবং ইমরুল কায়েসের কবিতা বাংলায় কাব্যরূপে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

বহুভাষাজ্ঞ এই সাহিত্যিক আরবি, ফার্সি, উর্দু ও ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। ভাষার এই বহুমাত্রিক জ্ঞান তাঁর সাহিত্যকর্মকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে সাহিত্য মহলে মত রয়েছে।

তিনি জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং বাংলা সাহিত্যচর্চা ও বানান সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

মাহমুদুল হাসান নিজামী ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহ ছিলেন বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং মাতা মরহুমা মায়মুনা খাতুন গৃহিণী ছিলেন।

তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য অঙ্গন একজন বহুমাত্রিক গবেষক ও সৃজনশীল কবিকে হারাল বলে সাহিত্য সংশ্লিষ্টদের

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।