‎শীত কিসের নাম

‎এন জে রাবেয়া 

‎শীত আসে—

‎উচ্চারণহীন এক প্রার্থনার মতো,

‎কুয়াশার শুভ্র অক্ষরে

‎গ্রামের পথলিপি মুছে দেয় ধীরে,

‎চারপাশ নিঃশব্দ হয়ে পড়ে

‎ঘুমন্ত পৃথিবীর বুক চিরে।

‎গায়ে জড়ানো শালের ভাঁজে

‎ভোরের নিঃসঙ্গতায় আমি হাঁটি,

‎কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে 

‎থাকে সকালের ভেজা মাটি,

‎পথের দুই ধারে খেজুর গাছ সারি সারি

‎যার বুকে ঝুলে আছে রসে ভরপুর হাড়ি।

‎কুয়াশার বুক চিরে

‎সূর্য ওঠে ধীরে ধীরে,

‎তার আলো শরীরে নয়—

‎আলো এসে পড়ে

‎মনের গভীর গহ্বরে,

‎পাখি ডাকে আকাশ নীড়ে

‎মনে হয়, হারিয়ে গেছি পাখির ভিড়ে।

‎শীতের দিনে

‎বাড়ির উঠোনে ভেসে আসে

‎পিঠা-পুলির ঘ্রাণ,

‎রোদে বসে থাকা বৃদ্ধদের চোখে

‎জমে থাকে শতবর্ষের শান,

‎খবরের কাগজের ভাঁজে ভাঁজে

‎লুকিয়ে থাকে রোজকার গান।

‎দুপুরের রোদে

‎ভেজা চুল শুকোয়,

‎নীরব হাসিতে

‎পরিবার জড়ো হয়—

‎শীত তখন

‎একটি মমতাময় আশ্রয়।

‎বিকেলের নদী

‎ঠান্ডা হাওয়ার সাথে কথা বলে—

‎অল্প শব্দে,

‎গভীর অর্থে বয়ে চলে।

‎কিন্তু রাত নামলে

‎শীত তার মুখ বদলায়।

‎আমরা যখন

‎আশ্রয় নিই উষ্ণ বিছানায়,

‎ভেবে দেখেছ কি? 

‎তখন কারো কারো খোলা

‎আকাশই শীতের চাদর হয়ে যায়। 

‎তাদের চোখে তাকাতে পারি না—

‎কারণ সেই দৃষ্টিতে

‎আমার বুকের ভেতর

‎একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে।

‎শীত কি কোনো ঋতুর নাম,

‎নাকি মানুষের প্রতি

‎আমাদের অবহেলার অন্য নাম?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।